Research Proposal (গবেষণা প্রস্তাবনা)
কোন গবেষণা প্রকল্পের ক্ষেত্রে একজন গবেষককে অবশ্যই একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়। এক্ষেত্রে গবেষককে তার গবেষণা কার্যের অনুমোদনের জন্য তার পরিকল্পনাকে ধাপে ধাপে সাজিয়ে যে পূর্ব পরিকল্পনার তৈরি করা হয় তাকেই গবেষণা প্রস্তাবনা বলে।
গবেষণা প্রস্তাবানার উপাদান (Elements of a Research Proposal):
গবেষণা প্রস্তাবনার ক্ষোত্রে বিভিন্ন সংস্থা বা তত্ত্বাবধায়কের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকতে পারে। এখানে কিছু মৌলিক উপাদান আলোচনা করা হলো-
১।গবেষণা সমস্যা অথবা উদ্দেশ্যঃ
সামাজিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গবেষণা সমস্যা চিহ্নিত করণ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ। প্রতিনিয়ত আমরা নানাবিধ ঘটনা বা সমস্যার সম্মুখীন হই, এ সকল সমস্যার মধ্যে যেটি আমাদের আকৃষ্ট করে তা নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং এই সমস্যা সমাধানের পথ খোজার চেষ্টা করা হয়। গবেষণার সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভর করে সমস্যা চিহ্নিত করণ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের উপর।
যেমন- মাদকাসক্তি সমস্যাকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসাবে চিহ্নিত করে “সামাজিক অস্থিরতার উপর মাদকাসক্তির প্রভাব” বিষয়টিকে গবেষণা সমস্যা হিসেবে নির্ধারণ করা যায়।
২। সাহিত্য পর্যালোচনাঃ
গবেষণার বিষয় নির্ধারণের পর এ বিষয়ে অন্যদের মতামত কি এবং কোন ধরনের তত্ত্ব ঐ বিষয়টিকে প্রতিনিধিত্ব করে বা সে সম্পর্কে কি বলে এ অংশে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া পূর্বে এ বিষয়ে গবেষণা হলে তার ফলাফল বিবেচনা করা অথবা তাদের কোন দ্বিমত থাকলে সেগুলোও এ অংশে তুলে ধরতে হবে।
৩। গবেষণা নমুনায়নঃ
যে সমগ্রক হতে গবেষণা তথ্য সংগ্রহ করা হবে গবেষণা নকশায় তার বর্ণনা করতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে যাদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে তারা পর্যাপ্ত কি না তা বিবেচনা করতে হবে। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কোন ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা এখানে আলোচনা করতে হবে। গবেষণা উত্তরদাতাদের যাতে প্রভাবিত না করে তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
৪।পরিমাপকঃ
গবেষণার প্রত্যয়গুলো এ অংশে তুলে ধরে তার পরিমাপের পদ্ধতি বর্ণনা করতে হবে এবং প্রত্যয়গুলো কি ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে তা উল্লেখ করতে হবে। এ বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণায় যে পরিমাপক ব্যবহার করা হয়েছে তা থেকে ভিন্ন পরিমাপক (যেমন-প্রশ্নপত্র) ব্যবহার করা হবে কি না এবং হলে তা গবেষণা প্রস্তাবনার শেষে, পরিশিষ্টে একটি নমুনার উল্লেখ্য করতে হবে।
৫। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিঃ
বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিশ্ব বা সমগ্রক হতে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যেমন- সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র, পর্যবেক্ষণ, কেস স্টাডি ইত্যাদি। কোন বিশেষ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং কেন সেই পদ্ধতিটি নির্বাচন করা হবে তা উল্লেখ করতে হবে। একই সাথে কয়েকটি পদ্ধতিও একটি গবেষণার তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতির সাহায্যে কি ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা হবে তা পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৬। তথ্য বিশ্লেষণঃ
সংগৃহীত তথ্যের সুষ্ঠু বিচার বিশ্লেষণের উপর গবেষণার ফলাফল নির্ভর করে। তথ্য কি পদ্ধতিতে এবং কোন দৃষ্টিকোণ হতে বিশ্লেষণ করা হবে এবং পরিসংখ্যানের কোন পদ্ধতি এ বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হবে তার বিবরণ গবেষণা নকশায় থাকবে। সারণি (Table), রেখা-চিত্র (Graph-diagram) ইত্যাদি কি পদ্ধতিতে তথ্য উপস্থাপন করা হবে তারও বিবরণ দিতে হবে। এক কথায়, তথ্য বিশ্লেষণ পরিকল্পনা (Data analysis plan) দিতে হবে।
৭। সময়সূচীঃ
গবেষণার একটি সময়সূচী গবেষণা নকশার অন্তর্ভূক্ত হবে। একটি গবেষণার কতদিন সময় লাগবে এবং নির্ধারিত সে সময় গবেষক কোন কাজে কিভাবে ব্যবহার করবেন তা এ সময়সূচীতে উল্লিখিত হবে। গবেষণার নকশা প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন লিখন ইত্যাদি প্রতিটি পর্যায়ে কতদিন সময় লাগবে তা নির্ধারণ করতে হবে। সময়সূচী গবেষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গবষেণা কার্য সম্পাদন করতে বিশেষ সহায়তা করে।
৮। বাজেটঃ
যে কোন গবেষণা কার্য পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথায় পাওয়া যাবে এবং উক্ত অর্থ কোন খাতে কিভাবে ব্যয় হবে গবেষণা নকশায় তার বিশদ বিবরণ থাকবে। সুষ্ঠু বাজেট, নির্ধারিত ও সীমিত অর্থের দ্বারা গবেষণা সম্পাদনে সাহায্য করে। পূর্বেই বাজেট করে আয়ব্যয়ের হিসেব অনুযায়ী গবেষণা পরিচালিত না হলে অর্থ অপচয়ের সম্ভাবনা থাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত অর্থের অভাবে গবেষণা কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা গবেষণা অসমাপ্ত থেকে যেতে পারে। বাজেট গবেষণা নকশার একটি অপরিহার্য অংশ।